Saturday, May 7, 2016

তুমি চলে গেলে ঃ বর্ষার বিষণ্ণ পংতিমালা






তুমি চলে গেলে ঃবর্ষার বিষণ্ণ পংতিমালা


তুমি চলে গেলে, প্রিয়তমা,
আমিও আসবো না এখানে আর কোনদিন ।
ইস্পাতের কঠিন কপাট খুলে
স্মৃতির বিস্তৃত উদ্যানে
নিখুঁত বলে দিতে পারবো না
কোথায় ফুটেছে ফুল,
কোথায় জীবন্ত সবুজ
হয়ে উডেছে তৃণপাতা,
কোথায় অবলীলায় চলছে
স্বপ্ন প্রজাপতির বিচরণ –
আমি সব কিছু নির্ভার রেখে যাবো
যেখানে যেমন ঃ
বিবর্ণ বৃক্ষ ,
কুণ্ডলী পাকিয়ে বেঁড়ে ওঠা অবিন্যাস্ত লতাপাতা ,
ধূসর বিস্তীর্ণ জলাভূমি –
আমি সব রেখে যাবো –
সূর্যাস্ত নেমে যাবে সূর্যাস্তের মতো ,
সূর্যোদয় নেমে যাবে সূর্যাস্তের মতো ,
আমিও নিঃশব্দে ধীর নেমে আসবো
দীর্ঘশ্বাসের অন্ধকার বেয়ে –
বিষণ্ণ এক উপত্যাকার নির্জন গভীরতায় ,
যেখানে কোন জোনাকির আনা গোনা নেই ,
যেখানে শ্বাপদের পদচিহ্ন আঁকা আছে চারিদিকে –
সেখানেই হবে শেষ ঠিকানা আমার ;
তুমি যদি ফিরে না আসো -
তবে কোন ফুল ফুটবে না জেনো
এই ধরণীর বুকে ,
তুমি যদি ফিরে না আসো -
আনন্দের বেলাভূমিতে দাড়িয়ে
সূর্যোদয় দেখা হবে না আর কারো ,
সমুদ্রের সর্বশেষ নিস্তব্ধতায়
যেখানে জীবনের সকল আর্তনাঁদ
স্থবির হয়ে থাকে চিরকাল –
সেইখানে  -
বর্ষার ভারী বৃষ্টির মতো ,
হেমন্তের নিটোল বাতাসের মতো ,
জমাট হয়ে থাকবে
আমার হাজার বছরের গাড় বিষণ্ণতা –
সময়ের আঁটসাঁট ফ্রেমে বাঁধা
অন্তহীন কোন বেদনার রুপকথা হয়ে ।

অনি , এই জীবন থেকে তুমি চলে গেলে –
এই জীবন জুড়ে ,
জীবন আসবে না ফিরে – আর কোনদিন ।।


                                                         কোলকাতা / ১৯৮৩ ।।

                                               ( ফটো ক্রেডিট ঃ বেরি এভান্স )

Monday, November 23, 2015

মহামানব ( ডাঃ শক্তি দাস কে শ্রদ্ধা জানিয়ে )






মহামানব
 
মহামানব নও জানি ।
তবে সুদ্রিপ্ত পাহাড়ের মতো
আকাশে ডানা মেলে ওঠা
অগুন্তি পায়রার মতো ,
একমাত্র আছো তুমিই ~
সেই মহামানবের কাছাকাছি ।

আঁটসাঁট অট্টালিকার এ জঞ্জাল্ময় শহরে ,
খুবই বেমানান তুমি ।
এ শহরে তো বিত্ত আর অলঙ্কারের দৌড়ারাত্ত,
মেকী মুখ আর অশুভ হাসির পায়তারা ,
এখানে স্টক আর আই টি বোনাসের
সরস আলোচনায় মুখর চারিদিক –
অথচ এখানেও ,
স্পন্দনহীন অঙ্কময় অসাড় সামাজিকতায়
হৃদকম্পন খুঁজে বেড়াও তুমি ;
কতখানি হলে হৃদয়ের বিস্তৃতি –
তাকে মহামানব বলা যায় ?
তা পৃথিবীর কতখানি স্থল, আর কতখানি জলের সমান ?

 শহরের ঘুনের বাতাস ,
ছুয়নি তোমাকে এখনো ।
এখানেই –
তুমি হাইতির দরিদ্রর জন্য উডে দাড়াও ,
গাজার কান্না চোখে নিয়ে
দুঃস্থ মানবতার জন্য ছুটে বেড়াও
দগন্ত থেকে দিগন্তে ;
কখনো আদিম সভ্যতার স্পর্শ নিয়ে
কেনিয়ার তুরকানা মালভূমির কাছে –
মাসাই তরুনের সাথে লম্ফ দাও –
অসীম আকাশের দিকে ;
অথবা কখনো
উদবাস্তুর বেদনা বুকে নিয়ে
অকপটে ফিরে যাও পূর্ব বঙ্গের জন্মভুমে –
বাঙলার জন্য অনেক অহংকার তোমার
একমাত্র সাম্যের কাছে মাথা নত করো তুমি ।
মহামানব শব্দের ভেতর তবে কী
কিছুটা আছে দাম্ভিকতা কোথাও ?
তবে তো এ পদবী তোমার নয় –
তুমি আছো সর্বদা সাধারণ মাঝে ।
তা হলে কি বলবো তোমায় ?
বন্ধু, গুরু, সহ যোদ্ধা – বা অন্য কিছু ?
এই নির্বিকার ভাবলেশহীন পৃথিবীকে
তাই বলে যেতে চাই,
যেমন নির্দ্বিধায় তুমি বলে দাও –
আমি জীবন দিতে রাজি, জীবন নিতে নয় –
আমি চিনতাম মানুষকে এক,
পৃথিবীর অট্টালিকা আর কংক্রিটের মাঝে,
অকপটে চপল হীন হেঁটে গেছে সে,
মানবতার টানে , মানবতার প্রানে ।
মহামানব হয়তো নয় সে জানি ,
তবে আকাশের মত গাড় নীল আর
সমুদ্রের সরব উচ্ছাস নিয়ে ,
প্রান্ত থেকে প্রান্তে বলে যাবো
বেচে আছি যতদিন –

আমি চিন্তাম মানুষকে এক –
মানবতার সকল শ্রেষ্ঠ সকাল নিয়ে
যে গড়েছিল তার পৃথিবীর প্রহর –
প্রতিটি ঘণ্টা অক্লান্ত কৃষকের মতো ,
সে বুনে গেছে এই পৃথিবীর কোণায় –
এক অতি মানবের বিস্তৃত তৃণভূমি ।।

( কবিতাটি পরম শ্রদ্ধেয় ডাঃ শক্তি দাস কে শ্রদ্ধা জানিয়ে লেখা )
                                               ১১/২২/২০১৫
                                                সান ফ্রান্সিস্কো ।।