Monday, November 23, 2015

মহামানব ( ডাঃ শক্তি দাস কে শ্রদ্ধা জানিয়ে )






মহামানব
 
মহামানব নও জানি ।
তবে সুদ্রিপ্ত পাহাড়ের মতো
আকাশে ডানা মেলে ওঠা
অগুন্তি পায়রার মতো ,
একমাত্র আছো তুমিই ~
সেই মহামানবের কাছাকাছি ।

আঁটসাঁট অট্টালিকার এ জঞ্জাল্ময় শহরে ,
খুবই বেমানান তুমি ।
এ শহরে তো বিত্ত আর অলঙ্কারের দৌড়ারাত্ত,
মেকী মুখ আর অশুভ হাসির পায়তারা ,
এখানে স্টক আর আই টি বোনাসের
সরস আলোচনায় মুখর চারিদিক –
অথচ এখানেও ,
স্পন্দনহীন অঙ্কময় অসাড় সামাজিকতায়
হৃদকম্পন খুঁজে বেড়াও তুমি ;
কতখানি হলে হৃদয়ের বিস্তৃতি –
তাকে মহামানব বলা যায় ?
তা পৃথিবীর কতখানি স্থল, আর কতখানি জলের সমান ?

এ  শহরের ঘুনের বাতাস ,
ছুয়নি তোমাকে এখনো ।
এখানেই –
তুমি হাইতির দরিদ্রর জন্য উডে দাড়াও ,
গাজার কান্না চোখে নিয়ে
দুঃস্থ মানবতার জন্য ছুটে বেড়াও
দগন্ত থেকে দিগন্তে ;
কখনো আদিম সভ্যতার স্পর্শ নিয়ে
কেনিয়ার তুরকানা মালভূমির কাছে –
মাসাই তরুনের সাথে লম্ফ দাও –
অসীম আকাশের দিকে ;
অথবা কখনো
উদবাস্তুর বেদনা বুকে নিয়ে
অকপটে ফিরে যাও পূর্ব বঙ্গের জন্মভুমে –
বাঙলার জন্য অনেক অহংকার তোমার
একমাত্র সাম্যের কাছে মাথা নত করো তুমি ।
মহামানব শব্দের ভেতর তবে কী
কিছুটা আছে দাম্ভিকতা কোথাও ?
তবে তো এ পদবী তোমার নয় –
তুমি আছো সর্বদা সাধারণ মাঝে ।
তা হলে কি বলবো তোমায় ?
বন্ধু, গুরু, সহ যোদ্ধা – বা অন্য কিছু ?
এই নির্বিকার ভাবলেশহীন পৃথিবীকে
তাই বলে যেতে চাই,
যেমন নির্দ্বিধায় তুমি বলে দাও –
আমি জীবন দিতে রাজি, জীবন নিতে নয় –
আমি চিনতাম মানুষকে এক,
পৃথিবীর অট্টালিকা আর কংক্রিটের মাঝে,
অকপটে চপল হীন হেঁটে গেছে সে,
মানবতার টানে , মানবতার প্রানে ।
মহামানব হয়তো নয় সে জানি ,
তবে আকাশের মত গাড় নীল আর
সমুদ্রের সরব উচ্ছাস নিয়ে ,
প্রান্ত থেকে প্রান্তে বলে যাবো
বেচে আছি যতদিন –

আমি চিন্তাম মানুষকে এক –
মানবতার সকল শ্রেষ্ঠ সকাল নিয়ে
যে গড়েছিল তার পৃথিবীর প্রহর –
প্রতিটি ঘণ্টা অক্লান্ত কৃষকের মতো ,
সে বুনে গেছে এই পৃথিবীর কোণায় –
এক অতি মানবের বিস্তৃত তৃণভূমি ।।

( কবিতাটি পরম শ্রদ্ধেয় ডাঃ শক্তি দাস কে শ্রদ্ধা জানিয়ে লেখা )
                                               ১১/২২/২০১৫
                                                সান ফ্রান্সিস্কো ।।


Saturday, November 22, 2014

বলে দিও / বর্ষার বিষণ্ণ পংতিমালা

                                                             




আবার দেখা হয় যদি কোনদিন ,
ভালবাসার নুতন প্রলেপে -
একে দেবো এক নুতন অবয়ব –
তোমার তৃণভূমে ;

আর দেখা না হয় কোনদিন যদি,
তবে অস্তিত্বের অংকুরে এসে
নীলিমার সীমান্তে এসে –
যেখানে জীবন নেমে আসে অবিরত
ব্যাথা বেদনার গীতি কবিতার মত,
সেই মোহনায় ক্ষণিক দাড়িয়ে ,

জন্মদিনের দ্বিপ্রহর যখন
সময়ের সিঁড়ি ভেঙ্গে সন্ধ্যায় নেমে গেছে ,
স্মৃতির সেই অস্থির আকাশে তখন,
ফিরে যাওয়া মেঘের দুরন্ত হাওয়ার কাছে –
নীরবে নিভৃতে অস্ফুটে বলে দিও – “ ভাল আছি “ ।।

বর্ষার বিষণ্ণ পংতিমালা / বলে দিও / আখতার হামিদ রাজ
ঢাকা, বাংলাদেশ, ১৯৮৪ ।।




Monday, September 16, 2013

সমুদ্রের কথা / বর্ষার বিষণ্ণ পংতিমালা



                        সমুদ্রের কথা / বর্ষার বিষণ্ণ পংতিমালা

আমি সমুদ্রে সমুদ্র দেখি না ।
অবারিত ঢেউয়ের আড়ালে,
আমি এক পৃথিবী দেখি -
জন্ম – মৃত্যু – ভালবাসার বিস্তীর্ণ খেলা দেখি,
শক্তির অপরুপ এক স্নিগ্ধতা দেখি,

আমি সমুদ্রে সমুদ্র দেখি না –
তোমার নিদারুণ ভালবাসা দেখি,
সরস আলতো ছোঁয়া দেখি,
উরন্ত গাংচিলের মত –
সীমাহীন সপ্নের এক আকাশ দেখি,

আমি সমুদ্রে সমুদ্র দেখি না –
দিকহীন বিশালতায় তাকিয়ে থাকা,
তৃণভূমির উচ্ছাসে উদ্ভব –
এক নাবিকের দৃষ্টি দেখি,
চিকচিক রোদ্দুরে, ঢেউ বেলাভূমির নৃত্যে –
তোমার হাসির মসৃণতা দেখি,

অনি, আমি সমুদ্রে সমুদ্র দেখি না,
আমি সমুদ্রে তোমাকে দেখি ।।

                                                                   সুবিক বে, ফিলিপিন, ১৯৮৯ ।